Helping Children for a Better Tomorrow

Tareq Mahamud Sajib

More than a third of the world’s primary school-aged children can’t read, write, or count;
that’s more than 250 million children aged between five and twelve. Education gives the
children a chance to gain the knowledge and skills needed to improve their lives and
helps them to get out of poverty. But it is also true that millions of children never see the inside
of a classroom. Many families worldwide prefer to send their children to work or keep
them home to help with the chores rather than sending them to schools because of
extreme poverty and hunger. Many children are unable to attend school because they are
needed to earn money and thus by sacrificing their education; they become trapped in the
‘Cycle of Poverty. Some children do not have access to schooling but for many others,
going to school does not result in education due to the lack of qualified teachers and poor
school infrastructure. The children of today are the guardians of tomorrow. If we want to
have a better and more glorious and prosperous future for the world than what we have
right now, there is no alternative to investing in the next generation. Providing quality
education and creating opportunities where the children can have a chance to flourish
their creativity are the most important investments and that is how we can have the most
impact. Any child who gets a chance to receive decent education has a greater chance of
being elevated out of poverty despite being born poor. With proper education, they can
hope to get better jobs, lead richer lives, and fulfill their potential. Even lives can be
saved by proper education; for example, mothers who are educated can make better
decisions when their infants are sick and take preventive measures. As per a UNESCO
estimate, every year more than 189,000 women’s lives would be saved and deaths of
under-five children would fall by 15%only if all women completed primary education.
Education, the children, and their well-being are always the key focus of Al-Khair
Foundation. In fact, the organization itself began as a school for the children from where
it evolved into a charity focusing on other global issues like emergency relief, livelihood
support, health support, WASH, shelter, hunger, etc. Al-Khair Foundation has been
sponsoring children for their education, food security, healthcare, and clothing. The
organization has dedicated itself to providing support for at-risk children and orphans. In
Bangladesh, Al-Khair Foundation has been partnering with other local and international
organizations to extend its support to the children so that we all can have a better future
together. 

Country Director, Al-Khair Foundation Bangladesh


ব্রিটিশ কাউন্সিলে ফোরসির শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ব্রিটিশ কাউন্সিলে ১৪ জুন চাইল্ড সেন্ট্রিক ক্রিয়েটিভ সেন্টার তথা ফোরসির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ক্রিয়েটিভ ক্লাসরুম অ্যান্ড চাইল্ড প্রটেকশন’ শিরোনামে একটি কর্মশালা। কর্মশালায় সহযোগী ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রি-প্রাইমারি ও প্রাইমারি এডুকেশন বিভাগ। এতে সৃজনশীল শ্রেণীকক্ষ ব্যবস্থাপনা, একীভূত শ্রেণীকক্ষ, শিশুর সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

এ কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের স্কুল বিভাগের প্রধান এমএইচ তানসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তাপস কুমার বিশ্বাস, সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র ম্যানেজার এডুকেশন মোয়াজ্জেম হোসেন ও জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) সহকারী বিশেষজ্ঞ মুহম্মদ সালাহউদ্দিন।

ফোরসির কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সিসিমপুর বাংলাদেশের প্রধান মোহাম্মদ শাহ আলম। সারা দেশ থেকে বিভিন্ন স্তরের বাংলা ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ৬০-এর অধিক শিক্ষক অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে কর্মশালায় অংশ নেন। কর্মশালায় উপস্থাপনা করেন ফোরসি জেনারেল সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান মানিক, সভাপতিত্ব করেন ফোরসি প্রেসিডেন্ট আশিক মুস্তাফা। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন ফোরসি সেক্রেটারি অব প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট পান্থ বিহোস ও সেক্রেটারি অব রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন ডা. সুস্মিতা জাফর। কর্মশালার শেষে সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দা তাহমিনা আখতার।


ফোরসির গল্পের কর্মশালা

গল্প লেখার পাঠশালা

রবিউল ইসলাম

নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী আসিফ করিমের সার্টিফিকেট নেওয়ার দৃশ্যটি যে কাউকে অভিভূত করবে। ওর মনকাড়া হাসিটা দেখে বোঝার উপায় নেই যে, সে একজন দৃষ্টিজয়ী। ২১ সেপ্টেম্বর শিশু একাডেমিতে লেখালেখির কর্মশালার ৩২ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে আসিফ করিম অন্যতম। চাইল্ড সেন্ট্রিক ক্রিয়েটিভ সেন্টার তথা ফোরসির আয়োজনে ‘প্রারম্ভিক পর্যায়ের শিশুদের জন্য গল্প লেখার কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালাটিতে আসিফও গল্প লিখেছেন; স্বাভাবিক মানুষের মতো কাগজে-কলমে নয়, ব্রেইলে। তার গল্প সবাইকে অভিভূত করে। আসিফের মতো আরেক দৃষ্টিজয়ী শারমিন ইসলাম রত্নাও কর্মশালাটিতে অংশ নেন।

 

কর্মশালার বিষয়ে জানতে চাই ফোরসির উদ্যোক্তাদের কাছে- লেখালেখি কর্মশালা করে কী হয়? তারা জানান, যাদের লেখালেখির হাত আছে, লেখালেখির মন ও মনন আছে, যারা লিখতে চান- তাদের জন্য কর্মশালা বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। তার ওপর সাধারণ লেখা আর শিশুদের জন্য লেখা এক কথা নয়। সাধারণের গল্প আর শিশুতোষ গল্প দুই-ই ভিন্ন। উপস্থাপনার ঢং, শব্দ চয়ন, গল্পের কাঠামো, বাক্যের আকার-আকৃতি ইত্যাদি ভিন্ন। এসব বিষয় সামনে রেখেই এ কর্মশালা।

 

‘প্রারম্ভিক পর্যায়ের শিশুদের জন্য গল্প লেখার কৌশল’ শীর্ষক ফোরসির কর্মশালায় সার্টিফিকেট বিতরণ করছেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হােসেন.

 

সত্যিই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী অনেকেই বলেছেন, তারা এর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। যেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষক ও সেভ দ্য চিলড্রেনের রিড প্রজেক্টের সাবেক ব্যবস্থাপক উত্তম কুমার ধর ও শিশুসাহিত্যিক আহমেদ রিয়াজ। প্রারম্ভিক পর্যায়ের শিশু কারা, কোন ফরম্যাটে তাদের জন্য গল্প লিখতে হবে, গল্পে কী কী থাকতে হবে ইত্যাদি হাতে-কলমে শেখানো হয় কর্মশালায়। ছোটদের জন্য অল্প শব্দে, ছোট বাক্যে কীভাবে গল্প সাজাতে হবে, গল্পে কীভাবে সমস্যা তৈরি হয়, তার সমাধানই বা কী প্রভৃতি বিষয় আলোচনা হয়। কয়েকজন অংশগ্রহণকারী বলেছেন, তারা নতুন অনেক কিছুই শিখেছেন। যেগুলো তাদের আরও আগে জানা উচিত ছিল।

 

ফোরসির এ উদ্যোগের ব্যাপারে সংগঠনটির উদ্যোক্তাদের একজন মাহফুজুর রহমান মানিক বলেছিলেন, কর্মশালাটি একেবারে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার থেকে বিশেষভাবে বললে ফেসবুকের মাধ্যমেই প্রচার করেছি। তাতে সবাই সাড়া দিয়েছেন এবং ফি দিয়েই সবাই অংশ নিয়েছেন।

 

ফোরসির কর্মশালায় শিশুসাহিত্যিক সুজন বড়ূয়া, রহিম শাহ ও শিশু একাডেমির পরিচালক আনজীর লিটন উপস্থিত ছিলেন। তবে মধ্যমণি ছিলেন শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। যার হাত থেকে সবাই কাঙ্ক্ষিত সার্টিফিকেট গ্রহণ করে। বক্তব্যে তিনি বলেন, শিশুদের সুকুমারবৃত্তি জাগিয়ে তোলার দায়িত্ব লেখকদের। শিশুসাহিত্যে আমাদের লেখকদের অবদান অসামান্য। আমরা বড় হয়েছি শিশুসাহিত্যের স্বর্ণযুগে। এখনও অনেক ভালো শিশুসাহিত্য হচ্ছে। সামনে আছে আরও অবারিত সুযোগ। আজ যারা শিশুদের কথা ভাবেন, শিশুদের জন্য লেখেন, তাদের আরও ব্যাপকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ভাবতে হবে নির্লোভভাবে। সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে সেলিনা হোসেন শিশুদের জন্য লেখালেখি নিয়ে এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন করায় চাইল্ড সেন্ট্রিক ক্রিয়েটিভ সেন্টার ফোরসিকে ধন্যবাদ দিতেও ভোলেননি।

 

মিলন মেলা যখন ভাঙে সবার চোখেমুখে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি দেখা যায়। কর্মশালায় অংশ নিতে সুদূর সিলেট, বগুড়া, কুমিল্লা, মুক্তাগাছা, গাজীপুর থেকে যারা এসেছেন সবার প্রতিক্রিয়া- কষ্ট তাদের সার্থক হয়েছে।

 

সমকাল, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮- http://samakal.com/todays-print-edition/tp-charmatra/article/18096039/%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA-%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A0%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE


ফোরসি ছড়া কর্মশালা

                 শিশু একাডেমিতে শিশুতোষ ছড়া লেখার কর্মশালা শেষে একত্রে ফটোসেশন

 

শিশুতোষ ছড়া লেখার কর্মশাল

শিশুদের সৃজনশীলতায় নিবেদিত সংগঠন চাইল্ড সেন্ট্রিক ক্রিয়েটিভ সেন্টার (ফোরসি) ১৬ নভেম্বর, শুক্রবার দিনব্যাপী একটি কর্মশালার আয়োজন করে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ছোটদের জন্য ছড়া লেখার কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালায় তরুণ ছড়াকারদের প্রশিক্ষণ দেন শিশুসাহিত্যিক ও ছড়াকার ফারুক নওয়াজ, সুজন বড়ুয়া, আমীরুল ইসলাম ও রোমেন রায়হান। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া কর্মশালায় ছড়া সাহিত্য, ছড়ার ব্যাকরণ, ছন্দ, ছোটদের জন্য ছড়া লেখার কৌশল প্রভৃতি বিষয় হাতে-কলমে শেখানো হয়। কর্মশালার শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি কাজী রোজী, ছড়াকার-শিশুসাহিত্যিক জগলুল হায়দার, আসলাম ছানী ও রহিম শাহ। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক ফোরসির প্রেসিডেন্ট আশিক মুস্তাফা। কর্মশালার বিষয়ে আশিক মুস্তাফা বলেন, যদিও লেখালেখি কর্মশালা করে হয় না। তবে এটাও ঠিক লেখাকে শানিত করতে কর্মশালা-প্রশিক্ষণের বিকল্পগু নেই। যাদের লেখালেখির হাত আছে, লেখালেখির মন ও মনন আছে, যারা লিখতে চান, তাদের জন্য কর্মশালা বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। তার ওপর সাধারণ লেখা আর শিশুদের জন্য লেখা এক কথা নয়।

 

ছড়া লেখাবিষয়ক এ কর্মশালার সঞ্চালনা করেন ফোরসির জেনারেল সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান মানিক। ফোরসির এ উদ্যোগের ব্যাপারে সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল মাহফুজুর রহমান মানিক বলেন, যারাই এ আয়োজনের কথা শুনেছেন, তারাই আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন। তবে কর্মশালাটি একেবারে সোস্যাল মিডিয়ায়, বিশেষভাবে বললে ফেসবুকের মাধ্যমেই প্রচার করেছি। তাতেই সবাই সাড়া দিয়েছেন। এবং ফি দিয়েই সবাই অংশ নিয়েছেন। নির্দিষ্ট ফি মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা পাঠিয়ে অনলাইনে ফরম পূরণ করে রেজিস্ট্রেশন করেন সবাই।

 

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ফোরসির সেক্রেটারি অব প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট পান্থ বিহোস ও সেক্রেটারি অব রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন সুস্মিতা জাফর। কর্মশালায় নিবন্ধনের মাধ্যমে সারা দেশ হতে ২৮ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। সনদপত্র বিতরণের মাধ্যমে কর্মশালার সমাপ্তি হয়। সাধারণের ছড়া আর শিশুতোষ ছড়া দুই-ই ভিন্ন। উপস্থাপনার ঢং, শব্দ চয়ন, কাঠামো, বাক্যের আকার-আকৃতি ইত্যাদি ভিন্ন। এসব বিষয় সামনে রেখেই এ কর্মশালা।

বণিক বার্তা, ১৯ নভেম্বর ২০১৮- http://bonikbarta.net/bangla/news/2018-11-19/177306/%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%A1-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%AD-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%A8-:–%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%8B%E0%A6%B7-%E0%A6%9B%E0%A7%9C%E0%A6%BE-%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE/?fbclid=IwAR14QNLHwZ4NYoO4gMNeVroeQB__rhrO81q3fS2Wg3bhzx3S9Nyr5c9LIG4


ফোরসি সেক্রটারিয়েটের যৌথ লেখা

শিশুর বিকাশ ও আমাদের ভবিষ্যৎ

আশিক মুস্তাফা, রজত আল জাবির, পান্থ বিহোস, সুস্মিতা জাফর, সোহেল নওরোজ, মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন ও মাহফুজুর রহমান মানিক

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে

 

অ- অ অ+

এমন একসময় জাতিসংঘ ঘোষিত সর্বজনীন শিশু দিবস উপস্থিত, যখন শিশুদের নিয়ে নানা মন খারাপের ঘটনা চারদিকে দেখছি আমরা। ইন্টারনেটে শিশু পরিস্থিতি খুঁজতে গেলে সামনে আসবে—শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে, অপুষ্টি, শিশু নির্যাতন, শিশু অধিকার লঙ্ঘন ইত্যাদি। এর বাইরেও সিরিয়া, ফিলিস্তিন, মিয়ানমারসহ নানা দেশে বড়দের জিঘাংসার শিকার শিশুদের ভেবে আমরা শিউরে উঠি। আফ্রিকার কোনো কোনো দেশের হাড্ডিসার শিশুর চিত্র আমরা হতবাক হয়ে দেখি। বিশ্বব্যাপী এসব চিত্র হতাশ করে বটে, তার পরও আমরা আশার আলো দেখি, পৃথিবীব্যাপী নানামুখী উদ্যোগ আমাদের প্রেরণা জোগায়।

 

সর্বজনীন শিশু দিবসটি জাতিসংঘ ঘোষিত ১৯৫৯ সালের ‘শিশু অধিকার ঘোষণা’ ও ১৯৮৯ সালের ‘শিশু অধিকার কনভেনশন’ প্রণয়নের দিন তথা ২০ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন তারিখে শিশু দিবস পালন করা হয়। আমাদের দেশে ১৯৯৬ সাল থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনটিকে শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আর অক্টোবরের প্রথম সোমবারকে ধরা হয় বিশ্ব শিশু দিবস। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জুনের ১ তারিখ শিশু দিবস। আর সর্বজনীন শিশু দিবস নভেম্বরের ২০ তারিখ।

 

তারিখ যেটাই হোক না কেন, সবারই কথা শিশুদের জন্য সুন্দর একটা আবাসন গড়ে তোলা। শিশুদের উপযোগী করে বিশ্বকে তৈরি করা। আর এসবই হচ্ছে বড়দের নৈতিক দায়িত্ব। অবশ্য শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ ‘নীল’ বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানিয়ে এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য করা হয়েছে, ‘চিলড্রেন আর টেকিং ওভার অ্যান্ড টার্নি দ্য ওয়ার্ল্ড ব্লু।’ বলা বাহুল্য জাতিসংঘের এ ‘নীল’ দিয়ে রাঙানোর ঘটনা হয়তো প্রতীকী। কিংবা এক দিন রাঙালেই শিশুর সার্বিক নিরাপত্তা, বর্ধন, বিকাশ নিশ্চিত হবে না। তার পরও হয়তো এটা মাইলফলক হয়ে থাকবে।

 

বাংলাদেশের শিশুদের অবস্থা বিশ্ব শিশু পরিস্থিতির মতোই বলা চলে। তবে হ্যাঁ, আমরা মা ও শিশুর মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে কমিয়ে আনতে পেরেছি। শিশু অধিকার সুরক্ষায় আমরা এগিয়েছি। তার পরও নানা দিক থেকে আমাদের এখনো কাজ করা প্রয়োজন। শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে, অপুষ্টি, শিশু নির্যাতন, শিশু অধিকার ইত্যাদিতে যেমন নজর দিতে হবে, তেমনি শিশুর সৃজনশীলতা, শিশুর বিকাশ, শিশু সাহিত্য ও শিশু শিক্ষায় আরো কাজ করা জরুরি। আমাদের জাতীয় শিক্ষানীতিতে আনন্দময় পরিবেশে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের উপযোগী শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। অথচ বাস্তবে স্কুলগুলোতে শিশুদের ওপর বই আর পড়ার চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বই বাড়লেও বাস্তবে শিশুর সৃজনশীলতা, শিশুর মন ও মনন উপযোগী বই কিংবা বইয়ের উপস্থাপনা যথেষ্ট নয়। এটা ঠিক, আগে শিশুদের বয়সভিত্তিক বই তেমন ছিলই না। বিশেষ করে আর্লি গ্রেড বা একেবারে প্রারম্ভিক পর্যায়ের বই কিংবা তাদের টার্গেট করে গল্প ও অন্যান্য লেখা কম ছিল। এখন সেটা শুরু হয়েছে। অনেকে তা নিয়ে কাজ করছে। শিশুদের কাজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করছে।

 

তবে আমাদের শিশুদের পড়ার যে চাপের মধ্যে থাকে বা থাকতে হয়—এ অবস্থায় তাদের বিকাশ কতটা যথাযথ হচ্ছে, তা ভাবার বিষয়। আমাদের দেশে বেশি পরীক্ষাও এ বিকাশে অন্যতম বাধা। বিশেষ করে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির পর পাবলিক পরীক্ষা শিশুর চাপ আরো বাড়িয়েছে। পরীক্ষাপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী বছর থেকে সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থীদের রিপোর্ট কার্ডে থাকবে না—কোনো গ্রেড, সর্বনিম্ন-সর্বোচ্চ নম্বর, রং দিয়ে দাগানো ফেল নম্বর, মোট নম্বর ও খারাপ গ্রেড। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের তুলনার বদলে পড়ার প্রতি বেশি উৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে।

 

এখন শিশুর যে বিকাশের কথা সবাই বলছে তার জন্য জরুরি বিষয়গুলো হলো—তার খেলাধুলা, শিশু উপযোগী সাহিত্য, সামাজিক নানা অনুষ্ঠান ও মিথস্ক্রিয়া। শিশু তার চারপাশ থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করে। চারপাশে কী হচ্ছে না হচ্ছে, তা সে খুব যত্নের, গুরুত্বের সঙ্গে, তীক্ষভাবে অবলোকন করে। এ জন্য শিশুর চারপাশটাকে সুন্দর ও সাবলীলভাবে তৈরি করা বড়দের দায়িত্ব। পরিবারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে শিশুকে ইতিবাচকভাবে চিন্তা করার উপযোগী করে তোলা। মানুষের প্রতি তার মমতা তৈরি করে দেওয়ার কাজটা অবশ্যই পরিবারকে তৈরি করে দিতে হবে।

 

শিশুকে শারীরিক আঘাত করা নিষেধ। মানসিকভাবেও যেন শিশুরা আঘাতপ্রাপ্ত না হয়, সেটাও পরিবার ও বিদ্যালয়ের জানা ও মানা দরকার। তার সহপাঠী, বন্ধুদের সঙ্গে সে ঠিকভাবে মিশতে পারছে কি না, তারা তার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করছে, কোনো আত্মীয় দ্বারা সে শারীরিক বা মানসিক অত্যাচারের শিকার হচ্ছে কি না—এগুলোও পরিবারকে নিশ্চিত হতে হবে। আমরা মনে করি, শিশুর সঙ্গে মা-বাবার সম্পর্ক হতে হবে মধুর। বন্ধু হিসেবে সে যেন গণ্য করে। যেন সংকোচহীনভাবে সব কথা মা-বাবার সঙ্গে বলতে পারে এদিকটা দেখার দায়িত্ব মা-বাবাকেই নিতে হবে। তৈরি করতে হবে এ রকম পরিবেশ। মা-বাবা যেন হয় তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।

 

শিশুকে আত্মমর্যাদা শেখাতে হবে। নিজের মূল্য বুঝতে শেখাতে হবে। স্বার্থপরতা থেকে দূরে রাখতে হবে। সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকা শেখাতে হবে। এদিকগুলো অবশ্যই পরিবারের, বিশেষ করে মা-বাবাকে নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে শিশু বড় হবে আত্মশক্তি আর দায়িত্বের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে।

 

শেষেও আমরা বিকাশের কথাই বলছি। শিশুর বিকাশে পরিবার, বিদ্যালয়, সমাজ, রাষ্ট্র—সবাই এগিয়ে আসুক। শিশু উপযোগী সুন্দর একটি সমাজ আমরা চাই। শিশুদের সৃজনশীলভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করি।

 

লেখকরা : শিশুদের জন্য সৃজনশীল স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ চাইল্ড সেন্ট্রিক ক্রিয়েটিভ সেন্টার-ফোরসির সঙ্গে যুক্ত

 

কালের কন্ঠ- ২০ নভেম্বর ২০১৮- https://www.kalerkantho.com/print-edition/muktadhara/2018/11/20/705592?fbclid=IwAR3ElOl0KckvZW9zMnMyUyb2CGM3-o9m6qL2q0Ix9ytw_yzTlUdGl9xLSac


ফোরসির সায়েন্স ফিকশন কর্মশালা

 

                                        সায়েন্স ফিকশন কর্মশালায় লেকচার দিচ্ছেন বিজ্ঞান বক্তা আসিফ

 

 

শহরে অন্যরকম ইশকুল

নূর ইসরাত জাহান

শিশুদের সৃজনশীল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফোরসি তথা চাইল্ড সেন্ট্রিক ক্রিয়েটিভ সেন্টার। শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশে সংগঠনটি কাজ করছে ভিন্ন আঙ্গিকে। ইতিমধ্যে তারা আয়োজন করেছে বেশ কয়েকটি সৃজনশীল শিশুসাহিত্যের কর্মশালা। ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হলো ‘সায়েন্স ফিকশন’ নিয়ে কর্মশালা। কর্মশালাটি হয় বাংলা পাজলের সহায়তায়। ঢাকার কারওয়ান বাজারে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক তথা জনতা টাওয়ারে হয় এটি। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৭টায় এ কর্মশালাটি ছিল প্রাণবন্ত। বিজ্ঞানবক্তা আসিফের আলোচনার আগে ফোরসির তরফে কথা বলেন মাহফুজুর রহমান মানিক। বিরতির পর আসিফ কসমিক ক্যালেন্ডার ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা শেষ করে আহসান হাবীবকে ফ্লোর দেন।

 

                     ৩০ নভেম্বর ২০১৮ অনুষ্ঠিত ফোরসির ‘সায়েন্স ফিকশন’ কর্মশালার সার্টিফিকেট বিতরণ।

 

অসাধারণ ভঙ্গিমায় অংশগ্রহণমূলক আকর্ষণীয় ও একটি কার্যকরী সেশন তিনি পরিচালনা করেন। তার কথা শেষে সার্টিফিকেট বিতরণী। এরপর গ্রুপ ছবি। ইতিমধ্যে কর্মশালার মধ্যমণি লেখক ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব হাজির হন। তার সঙ্গে সঙ্গে চলে প্রাণবন্ত এক সেশন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কর্মশালা শেষ হয় কিন্তু শেষ হয় না মিলনমেলা। সবক নেওয়ার পরও যেন অতৃপ্তি থেকে যায়। দুটি কর্মশালা শেষে সবাই প্রিয় লেখকদের সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তারপর আস্তে আস্তে বিদায়। ফোরসি কর্মশালার মূল্যায়ন ফরমে দেখা যায়, অধিকাংশই ভালো আয়োজনের প্রশংসা করেন। অনেক কিছু শেখা ও জানার দুয়ার খুলে দেওয়ার জন্য ফোরসিকে ধন্যবাদ দেন। অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, পরবর্তী কমর্শালা কবে হবে। বলাবাহুল্য, কর্মশালাগুলোতে এমন অনেকে ছিলেন যারা ফোরসির তিনটি কর্মশালায়ই অংশগ্রহণ করেন। অনেকে অংশগ্রহণ করেন দুটিতে। সৃজনশীলতার বিকাশে ফোরসি যেন শহরে এক নতুন স্কুল।

এর আগে ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ফোরসির ছড়ার কর্মশালা।

 

সমকাল: ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮- https://samakal.com/tp-charmatra/article/18121425/%E0%A6%B6%E0%A6%B9%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%AE-%E0%A6%87%E0%A6%B6%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B2


ফোরসি হেলথ ক্যাম্প হাসিমাখা মুখগুলো

১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে রাজধানীতে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ হেলথ ক্যাম্প। এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন…

১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস। এই দিনে শিশুদের নিয়ে নানান আয়োজন করে থাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। আর চাইল্ড সেন্ট্রিক ক্রিয়েটিভ সেন্টার-ফোরসি এ উপলক্ষে করলো ভীন্নধর্মী এক আয়োজন। রাজধানীর খিলগাঁওয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে করলো শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্যাম্পের আয়োজন। সুবিধাবঞ্চিত স্থানীয় প্রায় দুইশ’ শিশুকে চিকিৎসাসেবা প্রদান ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়।

দুয়েকদিন আগেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল টোকেন। স্বেচ্ছাসেবকরা পুরো এলাকা চষে বেড়ান। স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র শিশু, যাদের চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন তাদের হাতেই তুলে দেওয়া হয় টোকেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টায়ই অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে হাজির হন। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঢুকতেই নজরে পড়ে ফ্রি হেলথ ক্যাম্পের ব্যানার। চলে আসে ওষুধের গাড়ি; আসেন চিকিৎকরাও। প্রধান শিক্ষকের সহায়তায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই চিকিৎসকের রোগী দেখার ব্যবস্থা করা হয়। চারজন চিকিৎসক পাশাপাশি বসেন। শিশুরা এসেই স্বেচ্ছাসেবকদের থেকে সিরিয়াল নেন। সে অনুযায়ী চার চিকিৎসকের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে যায় শিশু কিংবা অভিভাবকরা। তরুণ চিকিৎসক দল অত্যন্ত দরদ নিয়ে শিশুদের দেখেন। বিশেষ অসুবিধা থাকলে অভিভাবককে বলেন। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে পরামর্শ দেন কোথায় যেতে হবে। কিংবা পরবর্তী চিকিৎসা কী। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়ে শিশুদের মুখে যে হাসি ফোটে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

শিশুদের লাইন দেখে আর চিকিৎসকদের আন্তরিকতা দেখে স্থানীয় দরিদ্র অনেক মানুষও চলে আসেন। শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হলেও অনেক বয়স্ক মানুষও সেবা পান। এ সুযোগে কেউ নিজেদের ডায়াবেটিস দেখেন, প্রেশার মাপেন। সেবাপ্রাপ্ত সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের অনুভূতিও অসাধারণ। তারা বলছেন, এ সেবা পেয়ে সবাই খুশি।

আয়োজকদের একজন বলছেন, ফোরসি শিশুদের মেধা ও মননের বিকাশে কাজের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এ চিকিৎসাসেবার আয়োজন করে। বিশেষ করে ঢাকার পথকলি ও বস্তিতে থাকা শিশু, যারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবাবঞ্চিত তাদের জন্য এ ক্যাম্প। এ ক্যাম্পে  সহ-আয়োজক ছিল রামপুরার ফরাজী হাসপাতাল। আয়োজনে সহযোগিতা করে দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রত্যাশিত হাসিমুখ।

চিকিৎসাসেবা ক্যাম্পে শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেন আয়োজক সংগঠন ফোরসির সেক্রেটারি অব রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন ডা. সৈয়দা সুস্মিতা জাফরসহ ডা. শাহজাহান আলী, ডা. মৌমিতা ধর ও ডা. তানজিরুল ইসলাম।

Samakal- 30 March 2019

https://samakal.com/todays-print-edition/tp-charmatra/article/19035778/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%96%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B


ক্রিয়েটিভ ক্লাসরুম এন্ড চাইল্ড প্রটেকশন

ব্রিটিশ  কাউন্সিলে অনুষ্ঠিত ফোরসির ক্রিয়েটিভ ক্লাসরুম এন্ড চাইল্ড প্রটেশন শীর্ষক কর্মশালা শেষে ফটোসেশন

 

মানুষ গড়ার কারিগর দেশের শিক্ষক-সমাজ। তাদের মধ্যে যারা আগামীর ভবিষ্যত শিশুদের নিয়ে কাজ করেন তাদের কথা নতুনভাবে বলার কিছু নেই। তাদের নিরলস পরিশ্রমে, তাদের হাত ধরেই তৈরি হয়েছে, হচ্ছে দেশ-জাতির কর্ণধার। শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে নানা ঘাটতির মধ্য দিয়েও অনেকে উঠে এসেছেন। নানা প্রতিবন্ধকতা হয়তো কোনো প্রতিভাবানের মৃত্যু হয়েছে। হয়তো আমদের অনেক ক্লাসরুমের দৃশ্য একেবারে শিশু উপযােগি নয়। অনেকক্ষেত্রে হয়তো শ্রেনীকক্ষে আসতে শিশুরা ভয় পায়। অথচ শিক্ষা নিয়ে যারা কাজ করেন, ভাবেন তারা বয়সানুযায়ী শিশুদের সুন্দর পাঠদানের নানা দিক দেখিয়ে গেছেন। কীভাবে শিশুকে আনন্দের মাধ্যমে সৃজনশীল উপায়ে পড়াতে হবে- তার নানা উপায় রয়েছে। বিদ্যালয়, শ্রেনীক্ষক সৃজনশীল করতে শিক্ষকের ভুমিকা সর্বাগ্রে।

 

১৪ জুন ২০১৯ ব্রিটিশ কাউন্সিলে অনুষ্ঠিত ফোরসির ক্রিয়েটিভ ক্লাসরুম এন্ড চাইল্ড প্রটেশন শীর্ষক কর্মশালা শেষে সার্টিফিকেট বিতরণ। অতিথি- ঢাবি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক-সৈয়দা তাহমিনা আখতার, সিসিমপুর বাংলাদেশের প্রধান- মোহাম্মদ শাহ আলম, ব্রিটিশ কাউন্সিলের স্কুল বিভাগের প্রধান এমএইচ তানসেন, ঢাবি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযােগী অধ্যাপক- তাপস কুমার বিশ্বাস, সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র ম্যানেজার এডুকেশন মোয়াজ্জেম হোসেন ও নেপের সহকারি বিশেষজ্ঞ মুহম্মদ সালাউদ্দিন।

অন্যদিকে শিক্ষা-গুরুদের হাতেই রয়েছে আমাদের শিশুদের নিরাপত্তার ভার। আমরা যখন দেখি শিক্ষক কতৃক শিক্ষার্থী যে কােনােভাবেই হোক নির্যাতিত হয়েছেন, শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটায় এমন কোনো কাজ শিক্ষকদের দ্বারা হয়েছে তখন শিউরে উঠি। সাম্প্রতিক সময়সহ এর আগেও এমন কিছু ঘটনা জাতীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে। আমাদের কষ্ট দিয়েছে।
এসব বিষয়ের ভাবনা থেকেই এ কর্মশালা ‘ক্রিয়েটিভ ক্লাসরুম এন্ড চাইল্ড প্রটেকশন’।

শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশে স্বেচ্ছাসেবি উদ্যােগ ফোরসি তথা চাইল্ড সেন্ট্রিক ক্রিয়েটিভ সেন্টারের আয়োজনে সঙ্গী হয়েছেন দেশের শিক্ষা ও গবেষণার সবোচ্চ প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) প্রি-প্রাইমারী এন্ড প্রাইমারী এডুকেশন বিভাগ। ব্রিটিশ কাউন্সিলে অনুষ্ঠিতব্য এ কর্মশালা থেকে যদি একজন শিক্ষকও উপকৃত হন, শিক্ষকের প্রশিক্ষণের কারণে যদি একজন শিক্ষার্থীও তার সুফল পায় তাতেই আমাদের শ্রম সার্থক। এখানে প্রশিক্ষক হিসেবে যারা রয়েছেন প্রত‌্যেকেরই ব্যাকগ্রাউন্ড আইইআর। যারা আইইআরে এবং বাইরে শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছেন, শিক্ষক-প্রশিক্ষণে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্নন সর্বোপরি দেশে ও বিশ্বে শিক্ষার সর্বাধুনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। একইসঙ্গে শিশুর বয়স, চাহিদা ও তাদের শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করছেন।